Header Ads

নব্বই দশকের সিটিজেন ইলেকট্রনিকস-এর বিজ্ঞাপন: একটি জীবন্ত স্মৃতিচারণা

 নব্বই দশকের সিটিজেন ইলেকট্রনিকস-এর বিজ্ঞাপন: একটি জীবন্ত স্মৃতিচারণা


 

নব্বই দশক—একটি স্বর্ণালী সময়, যখন প্রযুক্তি আর জীবনের সরলতা হাত ধরাধরি করে চলতো। সেই সময় বাংলাদেশের ঘরে ঘরে ইলেকট্রনিকসের জগতে এক বিশ্বস্ত নাম হয়ে উঠেছিল সিটিজেন ইলেকট্রনিকস। এর বিজ্ঞাপনগুলো ছিল একদিকে আবেগময়, অন্যদিকে বাস্তবতার প্রতিচ্ছবি—যেখানে একটি পরিবার, ভালোবাসা, অগ্রগতি এবং আধুনিকতার প্রতীক হয়ে উঠেছিল সিটিজেন ব্র্যান্ড।

টেলিভিশনে বিজ্ঞাপন শুরু হতো এক শান্ত সকাল দিয়ে—একটি মধ্যবিত্ত পরিবার, মা রান্নাঘরে, বাবা খবরের কাগজে চোখ রেখেছেন, ছেলেমেয়েরা স্কুলের জন্য প্রস্তুত। হঠাৎ ক্যামেরা ঘুরে আসে সিটিজেন টিভির দিকে, যেখানে চলছিল শিক্ষামূলক অনুষ্ঠান বা কোনো জনপ্রিয় নাটক। এক কোমল সুরে ভেসে আসত কণ্ঠ—
"আপনার জীবনের প্রতিটি মুহূর্তে… বিশ্বস্ততার একমাত্র নাম—সিটিজেন ইলেকট্রনিকস।"

বিজ্ঞাপনটি ধীরে ধীরে বিভিন্ন পণ্য প্রদর্শন করত—রঙিন টেলিভিশন, রেডিও, ফ্যান, কিংবা ক্যাসেট প্লেয়ার। প্রতিটি পণ্যের নিচে লেখা থাকত,
“টেকসই, নির্ভরযোগ্য, দেশজোড়া সুনাম।”

অনেক সময় বিজ্ঞাপনে থাকত দেশের জনপ্রিয় কোনো অভিনেতা বা কণ্ঠশিল্পী, যিনি বলতেন—
“আমার ঘরে আমি সিটিজেনই বিশ্বাস করি।”
এই লাইনগুলো সাধারণ মানুষের মনে গেঁথে যেত, কারণ এতে ছিল আত্মবিশ্বাস আর দেশীয় পণ্যের প্রতি গর্ব।

পত্রিকা বা ম্যাগাজিনের বিজ্ঞাপনেও একই রকম শিল্পিত রুচি ছিল। রঙিন পোস্টারে দেখা যেত এক আধুনিক বসার ঘরে সিটিজেন টিভি রাখা, চারপাশে পরিবারের সদস্যরা হাস্যোজ্জ্বল মুখে টেলিভিশন উপভোগ করছে। নিচে স্লোগান—
"প্রযুক্তির সাথে আস্থা—সিটিজেন ইলেকট্রনিকস।”

 

এই বিজ্ঞাপনগুলো শুধু পণ্য বিক্রির মাধ্যম ছিল না; বরং ছিল এক সময়ের পারিবারিক বন্ধনের, দেশীয় উন্নয়নের এবং গৃহস্থ জীবনের এক চিত্রপট।

আজ যখন আমরা নব্বই দশকের দিকে ফিরে তাকাই, তখন শুধু বিজ্ঞাপন নয়, পুরো একটা জীবনযাত্রার স্মৃতি ফিরে আসে। সিটিজেন ইলেকট্রনিকস সেই সময় শুধু একটা কোম্পানি ছিল না, ছিল বিশ্বাসের নাম।

কোন মন্তব্য নেই

Blogger দ্বারা পরিচালিত.